সেই ছোটোবেলা থেকে আমি অদ্ভুত এক স্বপ্ন দেখেছি। আমি সেই অজানা নারীর সামনে গিয়ে দাঁড়াব।যার ছায়া এতোদিন দেখছিলাম,তাকে সম্পূর্ণ আবিষ্কার করব।মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকব।তবে তাকে কি উপহার দিব আমি?টিভিতে কত কিছু না দেখেছি।কেউ রাতের আধাঁরে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে এক হাটুর উপর বসে তার প্রিয়তমাকে লাল গোলাপ দিচ্ছে।কেউবা বিকেলবেলার পড়ন্ত সূর্যের আলোয় মৃদু কম্পিত সুরে মনের কথা শেষমেষ বলে ফেলে।আরও কত কি।
কে কোথায় কীভাবে মনের কথাগুলো বলবে তার কোন নিয়ম নেই।তবে হাতে গোলাপ থাকা চাই।গোলাপ না হলেও অন্য কোন ফুল।কিন্তু ফুল আবশ্যক।এ যেন এক পূর্ণতার প্রতীক।
তবে ছেঁড়া ফুল নিয়ে আমার আপত্তি ছিল প্রচুর।ভাবসম্প্রসারণে পড়েছি,ফুল সুন্দর গাছে,মাছ সুন্দর নদী বা সমুদ্রে।ফুলের টবে বা একুরিয়ামে এদের মানায় না।কথটা ভীষণ ভালো লেগেছিল সেদিন।এরপর থেকে ফুল ছেঁড়া আমার অপছন্দ।এমনকি আজও কারো ছেঁড়া ফুলের ফটোগ্রাফি আমার ভালো লাগে না।গাছ কি ফুল ফোটায় আমরা ছিঁড়ে নিয়ে যাব বলে?
হ্যাঁ,কেউ বলবেন,"পুষ্প আপনার জন্য ফোঁটে না" এই প্রবাদের ভাবসম্প্রসারণ আমার মন দিয়ে পড়া উচিত।আমি পড়েছি,মন দিয়ে পড়েছি।আমি পুষ্প নিয়েও পড়েছি,পাঠ্যবইয়ে ছিল।সবাই পড়েছি।পুষ্প আপনার জন্যই ফোঁটে!ফুলের রং-বেরং,সুগন্ধ সবটাই সবটাই পরাগায়নের বাহককে আকৃষ্ট করার জন্য।এতেই শেষ নয়,ফুল উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ।আর স্বার্থপরের মতো মানুষ ফুল ছিঁড়ে।প্রোপজ করে,মালা বানিয়ে গলায় দেয়,অভিনন্দন জানায়,শ্রদ্ধা জানায়,স্টেজ সাজায়,মুকুট বানিয়ে মাথায় দেয়।দুঃখ হয় আমার।
তাই আমি ঠিক করে রেখেছি,যদি দিতে হয় ফুলের চারা দিব।আমার পদ্ধতিতে,অনন্য এক পদ্ধতিতে।আহা!কী সুন্দর স্বপ্ন।হয়ত বৃষ্টি থাকবে না,হয়ত পড়ন্ত রোদের ছায়া পাব না।তবে যা হবে অনন্য হবে।
চাইলেই তো সব হয় না।এক পশলা বৃষ্টি শেষে ঝকঝকে প্রকৃতির মতো সুন্দর এই স্বপ্নে পানি ঢেলে দিয়েছে কবি জন কীটস।তিনি নাকি বলেছেন,
"প্রেমিকাকে আমি কখনো ফুল দেইনি।ফুলের চারা গাছ দিয়েছি। ফুল তো দুদিনেই শুকিয়ে মরে যাবে।কিন্তু ফুলের চারা গাছ বড় হয়ে শত শত ফুল ফোটাবে।"
কপিরাইট,পাইরেসি,রয়েলিটি কই গেল?হি ইজ রাইট জাস্ট বিকজ হি বর্ন আরলি?কাম অন ম্যান।
আদৌ,তিনি একথা বলেছেন কিনা জানিনা।শুধু একটা লেখাকে সত্যি ধরে নেয়া ঠিক না।গুগল করেও সত্যি-মিথ্যা কিছু পাইনি।কেউ সত্যিটা জেনে থাকলে জানাবেন।
যেই বলুক কাজটা ভালো করে নাই।আর এই বান্দা মরে গিয়েছে বলে ছেড়ে দিলাম।নইলে,আমি এর শেষ দেখে ছাড়তাম।

No comments:
Post a Comment