Page

Monday, August 10, 2020

প্রণয়

 সেই ছোটোবেলা থেকে আমি অদ্ভুত এক স্বপ্ন দেখেছি। আমি সেই অজানা নারীর সামনে গিয়ে দাঁড়াব।যার ছায়া এতোদিন দেখছিলাম,তাকে সম্পূর্ণ আবিষ্কার করব।মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকব।তবে তাকে কি উপহার দিব আমি?টিভিতে কত কিছু না দেখেছি।কেউ রাতের আধাঁরে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে এক হাটুর উপর বসে তার প্রিয়তমাকে লাল গোলাপ দিচ্ছে।কেউবা বিকেলবেলার পড়ন্ত সূর্যের আলোয় মৃদু কম্পিত সুরে মনের কথা শেষমেষ বলে ফেলে।আরও কত কি।


কে কোথায় কীভাবে মনের কথাগুলো বলবে তার কোন নিয়ম নেই।তবে হাতে গোলাপ থাকা চাই।গোলাপ না হলেও অন্য কোন ফুল।কিন্তু ফুল আবশ্যক।এ যেন এক পূর্ণতার প্রতীক।


তবে ছেঁড়া ফুল নিয়ে আমার আপত্তি ছিল প্রচুর।ভাবসম্প্রসারণে পড়েছি,ফুল সুন্দর গাছে,মাছ সুন্দর নদী বা সমুদ্রে।ফুলের টবে বা একুরিয়ামে এদের মানায় না।কথটা ভীষণ ভালো লেগেছিল সেদিন।এরপর থেকে ফুল ছেঁড়া আমার অপছন্দ।এমনকি আজও কারো ছেঁড়া ফুলের ফটোগ্রাফি আমার ভালো লাগে না।গাছ কি ফুল ফোটায় আমরা ছিঁড়ে নিয়ে যাব বলে?


হ্যাঁ,কেউ বলবেন,"পুষ্প আপনার জন্য ফোঁটে না" এই প্রবাদের ভাবসম্প্রসারণ আমার মন দিয়ে পড়া উচিত।আমি পড়েছি,মন দিয়ে পড়েছি।আমি পুষ্প নিয়েও পড়েছি,পাঠ্যবইয়ে ছিল।সবাই পড়েছি।পুষ্প আপনার জন্যই ফোঁটে!ফুলের রং-বেরং,সুগন্ধ সবটাই সবটাই পরাগায়নের বাহককে আকৃষ্ট করার জন্য।এতেই শেষ নয়,ফুল উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ।আর স্বার্থপরের মতো মানুষ ফুল ছিঁড়ে।প্রোপজ করে,মালা বানিয়ে গলায় দেয়,অভিনন্দন জানায়,শ্রদ্ধা জানায়,স্টেজ সাজায়,মুকুট বানিয়ে মাথায় দেয়।দুঃখ হয় আমার।


তাই আমি ঠিক করে রেখেছি,যদি দিতে হয় ফুলের চারা দিব।আমার পদ্ধতিতে,অনন্য এক পদ্ধতিতে।আহা!কী সুন্দর স্বপ্ন।হয়ত বৃষ্টি থাকবে না,হয়ত পড়ন্ত রোদের ছায়া পাব না।তবে যা হবে অনন্য হবে।


চাইলেই তো সব হয় না।এক পশলা বৃষ্টি শেষে ঝকঝকে প্রকৃতির মতো সুন্দর এই স্বপ্নে পানি ঢেলে দিয়েছে কবি জন কীটস।তিনি নাকি বলেছেন,

"প্রেমিকাকে আমি কখনো ফুল দেইনি।ফুলের চারা গাছ দিয়েছি। ফুল তো দুদিনেই শুকিয়ে মরে যাবে।কিন্তু ফুলের চারা গাছ বড় হয়ে শত শত ফুল ফোটাবে।"

কপিরাইট,পাইরেসি,রয়েলিটি কই গেল?হি ইজ রাইট জাস্ট বিকজ হি বর্ন আরলি?কাম অন ম্যান।


আদৌ,তিনি একথা বলেছেন কিনা জানিনা।শুধু একটা লেখাকে সত্যি ধরে নেয়া ঠিক না।গুগল করেও সত্যি-মিথ্যা কিছু পাইনি।কেউ সত্যিটা জেনে থাকলে জানাবেন।


যেই বলুক কাজটা ভালো করে নাই।আর এই বান্দা মরে গিয়েছে বলে ছেড়ে দিলাম।নইলে,আমি এর শেষ দেখে ছাড়তাম।

টাক

 টাকওয়ালারা শুধু টাকাওয়ালা বিসিএস ক্যাডার হয়না।

তারা ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,ব্যাংকার,

বিজ্ঞানী,বুদ্ধিজীবী,চাকুরীজীবী

আর্মি,পুলিশ,পাইলট,

অভিনেতা,গায়ক,পরিচালক,

নেতা,মন্ত্রী,রাষ্ট্রপতি,

কবি,সাহিত্যিক,সাংবাদিক,

লেখক,গবেষক,শিক্ষক,

ফুটবলার,ক্রিকেটার,রেসলার

এমনকি হেয়ার স্ট্যালিস্টও হয়।

আবার,চুলওয়ালা বেকার প্রেমিকের মতো টাকওয়ালা বেকার প্রেমিকও আছে।শুধু কিছু চুলের অভাবে বেচারা সেই ব্যার্থতা ঢেকে অন্যের ওপর দায় চাপাতে পারেনা।😪

উপদেশ

 ছোটবেলায় বাবার দেয়া উপদেশগুলো খুব মন দিয়ে শুনতাম।সব আজও মেনে নেয়া যায়।কিন্তু একটা উপদেশ মেনে নেয়া যাচ্ছে না এখন। বাবা বলেছিলেন,"বিদ্ধ্যা আর চরিত্র বিক্রয়যোগ্য নয়,এ দুটি জিনিসের কোন বিনিময় নেই।"

 আমি অনেক ভাবলাম। তারা(বিদ্ধ্যান ও চরিত্রবান) বুঝে এবং না বুঝে ভাল স্কুলে পড়ে।ভাল কলেজেও পড়ে।ডাক্তারি-ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে,ভার্সিটিতে ভাল সাবজেক্ট পায়।সেখান থেকে ভালো সিজিপিএ নিয়ে সার্টিফিকেটের বস্তা নিয়ে চাকরির বাজারে নামে।ক্রেতা বা বিক্রেতা হয়ে নয়,পণ্য হয়ে।পণ্যের অবস্থা আশানুরুপ না হলেও কোনরকমে জীবন কেটে যায়।দূর্নীতি তাদের অনেকটাই গ্রাস করে তাদের।একসময় তারাই দূর্নীতি লালন করতে শুরু করে।এদিকে পাত্রীর বাজারেও তাদের একচ্ছত্র প্রভাব।বায়োডাটা ভারী খুব। তারা আমাদের সমাজে আদর্শ ছেলে,মেধাবী ছাত্র,ক্যারিয়ার সফল ব্যাক্তিত্ব।

সার্টিফিকেট আর বায়োডাটা দেখে তো মানুষ চেনা যায় না ভাই।

এসব জেনেবুঝে মেনে নিতে পারলে আপনি ম্যাচিউরড।এই তো জীবন। 

অতএব,বিদ্ধ্যা এবং চরিত্র উভয়ই বিক্রয়যোগ্য এবং বিনিময়যোগ্য।

নারী

নারী পুরুষ  বুঝি না।সবাই মানুষ। নারী যতদিন না পর্যন্ত নিজেকে মানুষ হিসেবে দাবি করবে ততদিন নারী তার অধিকার পাবে না।আগে মানুষ। তারপর আসে নারী আর পুরুষ। নারীবাদী বিষয়টা আমার কাছে অযৌক্তিক।নারী যদি নিজেকে মানুষ হতে আলাদা করে দেখে তবে সমাজ থেকে কিছু আশা করা নিষ্ফল আবেদন মাত্র।একজন মানুষের চিন্তা চেতনায় কী থাকে?তার স্বপ্ন,জীবন,যৌবন,ক্যারিয়ার ইতাদি।সেই সাথে সমাজ,রাজনীতি,সমসাময়িক ঘটনা ইত্যাদি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এদেশের সাধারণ অনেক নারী এখনও স্বপ্ন দেখে নিজেকে সুন্দরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার,একটা সুখের সংসার গড়ে তোলার। সে নিজেই সংসারের দেয়ালে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলে।ঘর সংসার করতে উচ্চশিক্ষার দরকার হয় না। উচ্চশিক্ষা নিয়ে শুধু ঘর সংসার করা মেয়েটা আর একটা উচ্চশিক্ষিত বেকারের পার্থক্য নেই। বেকারটা(নারী /পুরুষ) চেষ্টা করছে। তাই তাকে দোষ দিব না। কিন্তু যে নারী চেষ্টা করছে না,শুধু স্বামী সন্তান নিয়ে জীবন পার করে দিচ্ছে বা দেয়ার কথা ভাবছে সে দেশের বোঝা। সবচেয়ে বড় বোঝা।দেখুন,সমাজ বদলানোর আগে নিজেকে বদলাতে হবে।নারীকে তখন মানুষ হবে যখন সে নিজের সৌন্দর্যকে প্রাধন্য না দিয়ে নিজের কাজকে প্রাধান্য দিবে,নারী হিসেবে কিছু দাবি না করে মানুষ হিসেবে করবে,নিজের পায়ে দাঁড়াবে, পুরুষ থেকে নিজেকে আলাদা করে ভাববে না।আধুনিককালে নারী নির্যাতন হচ্ছে নারীকে উপভোগের বস্তু বানিয়ে রাখা।না হলে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতা নিয়ে এতো মাতামাতি কেন?রিসেপশনে, বিজ্ঞাপনে,বিমানের হোস্টে,অতিথি অভ্যর্তনায় নারীর সংখ্যা বেশি কেন?নারী বলাটা ঠিক হয়নি, সুন্দরী নারী। শিশুদের ছোট থেকে শিখনো হচ্ছে, নারী পৃথিবীতে  এসেছে সৌন্দর্য প্রদর্শন করতে, পুরুষের ভোগের বস্তু হিসেবে,পুরুষকে সাহায্য করতে;কিন্তু স্বাধীন স্বত্তা হিসেবে নয়।নারী নিয়ে করা সব ব্যবসার উদ্দেশ্য পুরুষ, পুরুষের সন্তুষ্টি।তাই পুরুষ হিসেবে আপনার দায়িত্ব আধুনিক নারী অবমাননার (ব্যবসার) কাস্টমার না হওয়া। আর নারী হিসেবে আপনার দায়িত্ব এ ব্যবসার প্রোডাক্ট না হওয়া।আর সবচেয়ে বড় ব্যপার হল, মানুষ হিসেবে নারী-পুরুষকে আলাদা করে না দেখা। লেখাটা পড়ে হয়তো হাসবেন,হয়তো ভালো হয়েছে বলবেন।কিন্তু আপনি কি পারবেন আধুনিক নারী ব্যবসা থেকে নিজে বের করতে?

চাঁদ

 মাননীয় স্পিকার,পর্যাপ্ত পরিমাণ লোড শেডিং না হওয়ায় চাঁদ এখন অবহেলিত।দুই ইদ ছাড়া চাঁদকে মনে পরে না আর(তাও দায়ে পড়ে)।মাননীয় স্পিকার,চাঁদ দেখা কমিটি পর্যন্ত ব্যার্থ আজ।ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে হয়ত চাঁদ আর পরিচিত হতে পারবে না।চার দেয়াল আর যন্ত্রে বদ্ধ জীবনে 'চাঁদ দেখা' ঠাই পায় না।তাই মাঝে মাঝে রাতের বেলা লোডশেডিংয়ের সুব্যবস্থা করার আবেদন পেশ করছি।এতে জনগণ ছাদে গিয়ে কিংবা ঘুরতে বেরিয়ে গিয়ে আকাশের চাঁদ দেখবে।চাঁদ দেখা আবারও আমাদের ফিরিয়ে দিতে লোডশেডিংয়ের বিকল্প নেই।যথাযথ উদ্যোগ নেয়া না হলে,চাঁদ বিজ্ঞান বইয়ে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ হয়েই থাকবে।আর চাঁদের আলো হবে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের ' A Moonlit Night' প্যারাগ্রাফ।কিন্তু চাঁদ ও চাঁদের আলো জীবনের অংশ ও অবসর হতে পারবে না।অতএব,আমার এই আকুল আবেদন বিবেচনায় আনা হোক।

চা

 

চা নামের এই পানীয়ের প্রতি আমার বিশেষ আকর্ষন আছে।এটা আমার কাছে পানীয় শুধু নয়;রীতিমতো গবেষণার বিষয়।আমার বাবা চায়ের উপর আমার প্রখর মনোযোগ দেখে একবার মন্তব্য করেছেন, "খাবারে লবণ কম হলেও ওর হুশ হয় না।কিন্তু চা যদি একটু হেরফের হয়,সে ঠিক ধরে ফেলবে।"

চা বানানোর বেলায় বড্ড আনাড়ি আমি।গত কয়েকদিন চেষ্টা করে যা বুঝলাম আমার পারফেক্ট চা বানাতে কোর্স করতে হবে।কিন্তু চা কোন মানের সে বিষয়ে আমি নিজেই অন্যদের কোর্স দিতে পারব।এটুকু আত্মবিশ্বাস আমার আছে।

আসুন পারফেক্ট চায়ের কী কী থাকা দরকার জেনে নিই।

#তাপমাত্রা
একটি ভৌত ব্যাপার।সঠিক তাপমাত্রা যদি থাকে,নিম্নমানের চা ও দারুন স্বাদের হয়।খুব বেশি গরম হলে প্রথম চুমুকে জিহ্বা পুড়ে যেতে পারে।আবার,ঠান্ডা হয়ে গেলে ভাল মানের চা ও পানের অযোগ্য।

#সমন্বয়
ভাল মানের চা মাত্রই উপাদান গুলার সঠিক সমন্বয়।এখানে একটি বিষয় বলে রাখা দরকার,চা পাতা পানি সিদ্ধ হওয়ার আগে দিতে হয় নাকি পরে দিতে হয় তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।এ বিষয় আমি নিজেও সুনির্দিষ্ট কোন সমাধানে আসতে পারি নি।

#উৎকৃষ্ট_উপাদান
প্রথমেই আসতে হয় দুধের কথায়।খাটি দুধের চায়ের বিকল্প নেই।তবে খাটি দুধ আজকাল সহজলভ্য নয়।এছাড়া আছে চা পাতা।মোটা দানা এবং চিকন দানা দুই প্রকারে চা পাতা আছে।চিকন দানাই ভালো।চিনি নিয়ে বিশেষ বলার নেই।শোনা যায়,এক সময় চিনি বদলে খেজুরের রস থেকে তৈরী মিঠাই ব্যবহার করা হতো।

#পাত্র
অপাত্রে পাত্র দান যেমন অনুচিত,তেমন অপাত্রে চা পান করাও অনুচিত।একই চায়ের স্বাদ বিভিন্নপাত্রে বিভিন্ন হয়।প্লাস্টিকের তৈরী কিছুতে চা পান অনুচিত।সেটা ওয়ানটাইম গ্রাস হোক,ফ্লাক্সের ঢাকনা হোক কিংবা প্লাস্টিকের কাপ হোক।কাচের তৈরী পাত্রেই চা পান করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।কিছু বান্দা আবার কাপের বদলে পিরিচকে বেশি পছন্দ করেন।এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।

#পরিমাণ
চা পছন্দ করেন বলেই একবারে অনেকটুকু চা পান করবেন তা হয় না।চায়ের বেলায় "অন্তরে অতৃপ্তি রবে" এই ব্যপারটা না থাকলে ব্যাপারটা জমে না।চা বেশি পান করতেই পারেন,তবে একবারে নয়,বারে বারে।

#সহযোগী_খাবার
কেউ কেউ শুধুই চা পান করেন।কেউ আবার চায়ের সাথে বিস্কুট বা অন্য কিছু খেতে পছন্দ করেন।অন্য খাবারগুলো চায়ের সাথে মেশানো হয়েছে কিনা তার উপরেও স্বাদ নির্ভর করে।এটা একান্ত ব্যাক্তিগত।তবে,যাই মিশিয়ে খান,পান করার জন্য যথেষ্ট চা অবশিষ্ট থাকা চাই।

#চাফি
চায়ের সাথে কফি মেশানো।আমার মতে এটা চায়ের অবামাননা ছাড়া কিছুই নয়।

#চায়ের_নানা_রূপ
সাধারণ চায়ের পাশাপাশি আছে রং চা,মশলা চা,গ্রিন টি,ব্ল্যাক টি ইত্যাদি।এর মধ্যে মশলা চা আমার পছন্দ।গ্রিন টি আমি বাংলায় গরম লেবুর সরবত বলি।একবার সিলেটে সাত রং এর চা পান করেছিলাম।আমার জীবনে পান করা সবচেয়ে খারাপ চা।

#চা-সিগারেট
চায়ের সাথে ধূমপান  নাকি নেশা আরও  বাড়ায়।স্মোকার না হওয়ায় আমার অভিজ্ঞতা নেই।

#ব্যাক্তিগত_ফিলোসোফি
সব কিছু ঠিক থাকার পরও চায়ের প্রতি আন্তরিক হওয়া চাই।আপনি যদি "আমি

তুমি

 অনেক "তুমি" পেয়েছি।জানি আরো পাবো।কিন্তু,আমি ঘুরেফিরে সে এক "তুমি" আবিষ্কার করি।সে "তুমি" আর কেউ নয়,সে "আমি"।


আমরা এই "আমি" কে ভালো রাখতে একের পর এক "তুমি" খুঁজে যাই।একটা স্বপ্ন ভাঙার পর আর স্বপ্ন না দেখার প্রতিজ্ঞা করি।সে প্রতিজ্ঞা নতুন "তুমি"র কাছে পরাজিত হয়।


সত্যি বলতে,"আমি" ছদ্মবেশী "তুমি" হয়ে জীবনে বারবার আসে;বোকা বানায়;চলে যায়;আবার আসে।

Sunday, August 9, 2020

শেষ লাফ

সব কিছুতে আমার তীরে এসে তরী ডুবে কেন বুঝতে পারি না।সব কিছুই ঠিকঠাক ছিল কিন্তু একটা ছোট লাফ..

ছোট লাফটা দিতে পারি নি।মনে হয়েছিল জীবনে কত বড় বড় লাফ দিয়েছি,এ আর এমন কি।তবে বাস্তবতা কঠিন।এটা তরল বা বায়বীয় হলেও চলতো।সবই যথেষ্ট সহজ হতো।আসলে তা নয়।


সুউচ্চ জায়গাটা পর্যন্ত যাওয়ার সাহস আমার ছিল।কিন্তু লাফ দেয়ার জন্য আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।কারণ,হৃদয় দূর্বল।

আর একটু অনুপ্রেরণা থাকলে,

একটু সাহায্য পেলে ঘটনা মসৃণ ও স্নিগ্ধ ভাবে ঘটত।ঘটেনি।কী হতো তা অনেকটা  অনুমান করতে পেরেছি।অনেকটা এরকম 

"সব কিছু নিয়ম মেনে চলছে।একটু উত্তজনা অনুভুত হচ্ছে।হঠাৎ সব নিস্ক্রিয়-নির্লিপ্ত হয়ে গেল।অতপর লাফ।মস্তিষ্ক দ্রুত কাজ করছে,সময় ধীরে চলছে,সব যেন স্থির,ওজনহীন অনুভব করছি,পুরানা সব ঘটনা মনে পড়ছে,সব কিছুই হাল্কা,শত শত বন্ধন ছিন্ন করার স্বর্গীয় তৃপ্তি।সব ঝাপসা, ধুসর, কালো অন্ধকার। এবং সমাপ্তি।"

সিনেমার মতো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজবে না।দর্শক করুণায় আচ্ছন্ন হবে না। 

চাই না।

যদি ছোট লাফ দেয়ার জন্য কেউ প্রেরণা দিত,

যদি শূন্যে ভেসে থাকা অবস্থায় কেউ ছবি তুলে রাখত,(ছোটবেলায় খুব শখ ছিল)

যদি কেউ তখন ভায়োলিনের সুর বাজাতো,

যদি আমাকে আর খুঁজে পাওয়া না যেত..

ব্যাপারটা চমৎকার হতো। 

খুঁজে পেলেও কেউ এসে বলবে না, 'আমার কী হবে!'

-এটাও চমৎকার।

হয়তো পত্রিকায় সে শূন্যে ভাসা ছবিটি দিয়ে শিরোনাম হবে,ফেসবুকে দুই চারজন শোক প্রকাশ করবে।আলোচনা-সমালোচনা হবে।

-এগুলো বিরক্তিকর। 

কিছুদিন পর, 

পৃথিবীর ভাবখানা এমন যেন কিছুই হয়নি।

-এটা স্বাভাবিক।

[সাহায্য আবশ্যক ]